বাঙ্গালির আই ভিশন “আমার চোখে কোন সমস্যা নাই, চশমা পরব কেন! দূরের ঐ পিপড়াও দেখি শুধু কাছে দেখতে সমস্যা”
চোখে যেকোন ধরনের সমস্যা থাকতেই পারে। বয়স হলে বা বয়সের আগেই যে সমস্যাটি প্রায় অনেকর হচ্ছে সেটি হল চোখে কম দেখা। চোখে কম দেখার সমস্যা দুই ধরনের ১. কাছে কম দেখা, ২. দূরে কম দেখা। এখানে উল্লেখ্য যে যারা দূরে কম দেখে তাদের মাইনাস পাওয়ারের চশমা ব্যবহার করতে হয় এবং সব সময় চশমা পরে থাকতে হয়। চশমা না পরলে মাথাব্যাথা, মাথা ঘুরানো, চোখ ব্যাথা, ব্লাকবোর্ড পড়তে সমস্যা সহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। যেসব রোগী কাছে কম দেখে তারা দূরের সব ভালো দেখে তাই তারা শুধু কাছের লেখা পড়ার সময় চশমা ব্যবহার করলেই পারে বা চোখ প্রায় বন্ধ করে মিটমিট করে অতি কষ্টে দেখতে পারে, তবে একটা সময় আর মিটমিট করে দেখা সম্ভব হয় না তখন চশমা পরতেই হবে।

বাঙ্গালি মূলত দুটি কারনে চশমা পরে না।
১। নিজে অন্য কাউকে কানা বলে খ্যাপানোর চেষ্টা করে।
২। অন্য লোকে তাকে কানা বলে খ্যাপাবে সেই লজ্জায়/ ভয়ে।
চশমার পাওয়ার দুই ধরনের হয়
১। প্লাস পাওয়ার
২। মাইনাস পাওয়ার
১। প্লাস পাওয়ার:
কাছের লেখা পড়তে, কাগজে লিখতে, মোবাইলে লেখা যায় না ইত্যাদি সমস্যায় চশমায় প্লাস পাওয়ার ব্যবহার করতে হয়। তবে বাঙ্গালির আই ভিশন নিয়ে অহংকারের শেষ নাই। তারা চোখ ছোট করে দেখার চেষ্টা করবে কিন্তু চশমার জন্য ডাক্তারের কাছে যাওয়া, চশমা পরা পাপের কাজ মনে করে। যারা চশমা পরে তাদের অভিশপ্ত মনে করে কিন্তু নিজে না দেখলেও চশমা সে পরবেন না। চশমা যারা পরে তাদের গালি দিয়ে তারা গালি খেতে চায় না। তারা কোন সমস্যাকে সমস্যা মনে না, সমস্যা বুঝে সমাধানে না গিয়ে অভিশাপ মনে করে আর তাদের নিজ অভিশাপ তারা নিজেরাই বহন করে চলে।
২। মাইনাস পাওয়ার:
দূরে লেখা পড়তে না পারার সমস্যা মাইনাস পাওয়ারের চশমা পরার মাধ্যমে সমাধান করা যায়। সাধারণত শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা ব্লাকবোর্ড/ বোর্ডের লেখা ঝাপসা দেখতে পায় এবং মাথা ব্যাথা সামান্য থেকে অসহনীয় পর্যায় চলে যায়। এসব সমস্যা শুরু থেকে দেখলে ডাক্তারের পরামর্শানুসারে চশমা ব্যবহারে সমাধান করা সম্ভব এবং কিছু ব্যায়াম ও খাবারে পরিবর্তন আনলে স্থায়ী সমাধান সম্ভব। তো যাই হোক বাঙ্গালির আই ভিশন হল কোন পাপ করলেই চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যায়! কি তাদের দর্শন!
তো বাঙ্গালির আই ভিশন অনুযায়ী সে যত যাই হোক চশমা পরবেই না, তাতে যা হয় হবে। পাপ করলে কেউ চশমা পরে এমন ধারনা তারা পুষে রাখবে কারণ তারা চোখ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চায় না তবে কোন কবিরাজ (ভন্ড কবিগুরু) যদি কোন টোটকা চিকিৎসা দেয় সে তা অবলিলায় চোখে দিয়ে অন্ধত্ব বরন করে চক্ষু হাসপাতালে আসবে এবং তখন ডাক্তারের কিছুই করার থাকবে না। তবে এখানে কোন কবিতা না লিখেই কবিরাজ হবার খ্যাতি অর্জনকারীর কাছে উক্ত ব্যাক্তি আবার যাবে এই বলতে যে, তার ভুল হয়েছে মার্জনা করিবেন এভাবে কবিরাজ লাইফ টাইমের জন্য এক অন্ধ ভক্ত পেয়ে যাবে। আর এভাবেই চলতে থাকবে বাঙ্গালির আই ভিশন।
