বিয়েতে নাচের দৃশ্য তৈরীতে ব্যয়বহুল আয়োজনবিয়েতে নাচের দৃশ্য তৈরীতে ব্যয়বহুল আয়োজন

বিয়েতে যে কারনে ও যেভাবে সতর্কতা অবলম্বন করবেন।

গ্রামের বাড়িতে গিয়ে অনেক প্রবাদ বাক্য পেয়েছি তার মধ্যে

বিয়ের ঠক, বড় ঠক।

বাক্যটার গুরুত্ব ব্যাপক। বিয়ের মত পবিত্র একটি বন্ধন তৈরীতে কতটা জঘন্ন ও নিম্নমানের কার্যকলাপ ও ঠকানোর মত কার্যকলাপ হয় তা শুধু একটু চোখ খোলা রাখলেই আপনি অনেক কিছু দেখতে পাবেন। তো যেভাবে সর্তকর্তা অবলম্বন করবেন অভিজ্ঞতার আলোকে তার কিছু (কিছু বলতে কিছু এবং নিত্তান্ত ক্ষুদ্র) পরামর্শ আপনাদের সাথে ভাগাভাগি করছি। বিবাহিত বা অবিবাহিত সবার জন্য প্রযোজ্য হবে আমার এই সংগ্রহটি, বলতে পারেন ঠকে লিখেছি কি/ না, আসলে দেখে সংগ্রহ করেছি বিয়ের আগে বলা মুশকিল ঠকব নাকি, সব কিছু ঠিকঠাক মত সম্পন্ন করতে পারব। চলুন দেখে নেই:

বিয়েতে নাচের দৃশ্য তৈরীতে ব্যয়বহুল আয়োজন

১.     নিজে যাচাই করবেন: বিয়ের জন্য পাত্র/ পাত্রী নিজে সব কিছু যাচাই বাছাই করে নিবেন। বিয়ের ক্ষেত্রে কে আপনার জন্য ভালোভাবে সব তথ্য যাচাই করবে তা বলা মুসকিল। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় আপনি আপনার অভিবাবকদের উপর নির্ভর করে আছেন কিন্তু তাদেরকে অন্য কেউ ভুল বুঝিয়ে আপনার এবং আপনার পরিবারের বারোটা বাজিয়ে বলবে “তোমরা দেখে নাও নাই কেন!”। এসব শোনার আগেই আপনার অভিবাবক এবং আপনি নিজে সব তথ্য যাচাই করে নিবেন।  

২.     পড়া- শোনা: পাত্র বা পাত্রীর পড়া- শোনা কতটুকু সেটা ভালোভাবে জানবেন। অনার্স/ মাস্টার ডিগ্রি পাস হলে অবশ্যই বিষয় জেনে নিবেন। এস.এস.সি কবে দিয়েছে কোন বিষয় জানবেন সাথে পাশের সন। বিষয় ভিত্তিক কমন কিছু প্রশ্ন জোগার করে যাচাই করে নিবেন আসলে পড়াশোনা করেছে কি/ না। এস.এস.সি সাইন্স হলে কিছু সংকেত জিজ্ঞাসা করবেন, কমার্স হলে ডেবিট ক্রেডিট এর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করবেন, আর্টস এর হলে ইতিহাস এবং টুকটাক ইংরেজি কিছু প্রশ্ন করবেন।

৩.    চাকুরী: পাত্র/ পাত্রী যে যেখানে চাকুরী করে সেখানে স্বশরীরে গিয়ে ডিপার্টমেন্ট এ গিয়ে খোজ নিয়ে আসবেন যে কোন পোস্টে চাকুরী করে। বিয়ের পর ঝামেলা হলে অনেকে খোজ নিতে যান যেটা বিয়ের আগে করলে কোন ঝামেলা হবার সম্ভাবনা থাকে না। কোন অফিসের সামনে থেকে সেল্ফি বা বসের অনুপস্থিতে তার চেয়ারে বসে ছবি তুলে তা নিয়ে অনেক প্রতারক বিয়ে করে পাত্র/ পাত্রীদের হয়রানি করে।

৪.     স্থায়ী ঠিকানা: সব পাত্র/ পাত্রীর স্থায়ী ঠিকানা থাকবে। স্থায়ী ঠিকানা থাকা মানেই আপনি সেখানে পাত্র/ পাত্রীর সুনাম এবং বদনামের লোক পাবেন। তাদের সাথে কথা বললেই আপনি আপনার প্রয়োজনের অধিক তথ্য পাবেন আর তাতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন যে পাত্র বা পাত্রীর সাথে পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যাবে কি/ না।

৫.     বাড়ি: স্থায়ী ঠিকানায় বাড়ি থাকবেই তবে নিজের বাড়ি না থাকলে অনেকে পাশের বাসায় নিয়ে আলোচনা বা কথা বার্তা বলেন এতে পাত্র/ পাত্রী ভুল তথ্য পায় এবং আলোচিত বাসাকে তাদের বাড়ি ভেবে নেয়, এটা এক ধরণের প্রতারণা। এসব প্রতারণা ঠেকাতে বাড়ি পাত্র/ পাত্রীর নিজের কি/না যাচাই করে নিবেন। তবে পাত্র/পাত্রী মনপুত হলে বাড়ি মুল বিষয় না।

৬.     ক্যামিকেল: এখন ক্যামিক্যাল এত গভির পর্যন্ত রং ফর্সা করে যে, কে কোন রং এর বোঝা মুসকিল। তাই যারা শুধু ফর্সা/ সাদা মেয়ে খুজেন তাদের ধোকা দেয়া এখন খুব সহজ। 

৭.     প্রবাসী: প্রবাস জীবনে কে কি করে তা জানা খুব কষ্ঠসাধ্য ব্যাপার। কোন এক সময় ঢাকায় কে কি করে যা জানা যেমন কষ্টকর ছিল এখন প্রবাসে কে কি করে তা জানা কষ্টকর। প্রবাসীদের শুধু টাকাই যোগ্যতা হিসেবে নিরুপন হয়। এটার সাথে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, মানবিকতা, শিষ্টাচার, চরিত্র দেখা প্রয়োজন।  

৮.     দেনমোহর: দেনমোহর কত আদায় করতে পারবেন (ছেলেদের জন্য) তা নিশ্চিৎ হয়ে লিখুন। আবেগ বা সমাজে দেখানোর জন্য বেশি কখনই লিখেবেন না। এটা মেয়ে পক্ষের এবং যারা আপনার ভবিষ্যত দেখে নেবার ইচ্ছা থাকে তারা বেশি লেখার পক্ষে থাকবে।

৯.     উপহার: মেয়ে পক্ষ থেকে কোন প্রকার উপহার নিবেন না। এটা খুব বাজে একটা বিষয়, আপনাকে যত ভালোভাবেই উপহার দেয়া হোক মেয়ে পক্ষ আজীবন সে উপহারের কথা মনে রাখবে এবং সেটা নষ্ট হয়ে গেলেও তা ছেলে পক্ষ ইচ্ছাকৃত নষ্ট করেছে বলে দায় দেয়া হবে।

১০.    সঠিক পাত্র/পাত্রী: এমন ঘটনা মাঝে মাঝেই হয় যে আপনি দেখবেন এক পাত্র/ পাত্রীকে বিয়ের পর দেখবেন ভিন্ন আরেকজন। এটি যাচাই বাচাইয়ের জন্য যে বা যারা থাকে তারা বেখেয়ালী থাকে।

১১.    অভিবাবক: পাত্র/ পাত্রীর অভিবাবক কেবলই বাবা>মা। অর্থাৎ বাবা না থাকলে মা প্রধান অভিবাবক। বাবা-মা থাকতে দাদী/ নানী/ চাচা/ মামা ভিন্ন কেউ অভিবাবক মানেই আপনি অভিবাবক বিহীন বিয়ে করছেন আর ধরা খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রথম দেখাতেই অনিহা দেখিয়ে চলে আসুন।

১২.    পরিবেশ: প্রতিটি মানুষ ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে গড়ে ওঠে। তবে নিজেকে গড়তে পারে খুব অল্প কিছু মানুষ। তাই শুধু মন্দ পরিবেশ দেখে কাউকে নীচু আর আর ভালো পরিবেশে থাকা কাউকে উচু ভেবে ভুল করবেন না, যাচাই করে নিবেন।  

১৩.    ধর্মিয় জ্ঞান: সাধারণ ধর্মীয় জ্ঞান আছে কি/ না যাচাই করে নিবেন। যেমন সূরা কেরাত, পূজার আর্চনা ইত্যাদি আপনি যা ভালো জানেন তার সাথে মিলিয়ে নিবেন।

১৪.    সার্জারী: সৃষ্টিকর্তার তৈরী সকল চেহারা খুব সুন্দর, আমি আজ পর্যন্ত কারো চেহারা বাজে দেখি নাই। তবে কারো কথায় কারো স্বাভাবিক চেহারা মলিন লেগেছে, আমার ভুল হয়েছে সেই সব লোকদের সাথে থেকে এবং তাদের কথা শ্রবণ করে। যাই হোক অনেকে নিজের চেহারা, শরীরের আকার পরিবর্তনের জন্য সার্জারী করে থাকেন। সার্জারী করেন আর যাই করেন ভবিষ্যৎ সন্তান আপনার জীন ফলো করেই পৃথীবিতে আসবে। তাই পাত্র/ পাত্রী চেহারায় বা শরীরে সার্জারী করেছে কি/ না যাচাই করবেন। আগের ছবি দেখতে চাইবেন তাহলেই সার্জারী সমস্যা বুঝতে পারবেন।

উপরের স্বল্প মাত্রায় কিছু সংগ্রহ নিয়ে আলোচনা করা হল। আপনার কোন অভিজ্ঞতা বা ধারনা সবার সাথে শেয়ার করতে পারেন।

ধন্যবাদ।

https://www.bdsomadhan.com/2019/11/18/মেয়ের-বিয়ে-দিতে-পারলেই-হল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *