মাদারীপুর জেলযেভাবে মাদারীপুর জেল পরিদর্শন করতে যাবেন

মাদারীপুর জেল মাদারীপুর সদর শহরে অবস্থিত। এটি একটি সাবজেল, কেন্দ্রিয় জেল এর আওতায় সাবজেল থাকে। সাবজেল সাধারনত স্বল্পস্থায়ী বন্দীদের জন্য। দীর্ঘমেয়াদি সাজাপ্রাপ্ত বন্দি কেন্দ্রিয় জেলে থাকে। জেলে বন্দীদের সাথে যেভাবে এবং যেসব নিয়ম অনুসণ করে দেখা ও একান্ত প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদন করতে পারবেন তা নিচে ধাপে ধাপে আলোচনা করা হল।

বন্দির সাথে কে কে দেখা করতে পারবেন: কারাগারে বন্দির সাথে যে কেউ ইচ্ছা করলেই দেখা করতে পারবেন না, এর জন্য জেল কোড (নিচে সংযুক্ত) মেনে দেখা করা যাবে। জেল এ বন্দির সাথে দেখার করার জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিক তালিকা নিচে দেয়া হল:
১. বাবা-মা
২. স্বামী/ স্ত্রী
৩. আপন ভাই-বোন
বন্দির সাথে দেখা করতে বাবা-মা এবং স্বামী/ স্ত্রী অগ্রাধিকার পাবেন এবং এই দুইজন ছাড়া অন্য কেউ সাক্ষাতে সুযোগ পাবেন না। বন্দির সাথে দেখা সাক্ষাতের জন্য অন্য কেউ থাকলে অর্থাৎ চাচা/মামা.. ইত্যাদি থাকলে অবশ্যই বাবা-মা বা স্বামী/ স্ত্রী এর সাথে দেখা করার সুযোগ পেতে পারে। জেলগেটে বাবা-মা বা স্বামী/ স্ত্রী ছাড়া আপন ভাই-বোন দেখা করতে গেলে জেল কর্তৃপক্ষ এর অনুমোদনক্রমে দেখা করার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।

বন্দি স্বজনের সাথে সাক্ষাতের সময়: বন্দির সাথে দেখা সাক্ষাতের জন্য নির্ধারিত ফরমে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে ১২টা এবং ১.৩০ থেকে ৪.০০ পর্যন্ত আবেদন নেয়া হয়, আবেদন বিনামূলে গ্রহণ করা হয়। সাক্ষাৎকালে জেল কর্তৃপক্ষ অনুমোদন সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট কথা বলা যেতে পারে। মাদারীপুর জেল এর বন্দিদের সাথে একবার দেখা করার পর ১৫* দিন পর আবার দেখা করা যাবে। সাক্ষাতের সময় অবশ্যই মোবাইল ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স ক্যান্টিন বা বাহিরে রেখে আসতে হবে, ক্যান্টিনে মোবাইল রাখা নিরাপদ কারণ এখানে মোবাইল রাখার পর একটি টোকেন সরবরাহ করা হয় এবং ক্যান্টিন কারা কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান, বাহিরে রাখলে হারানোর সম্ভাবনা থাকে।

বন্দি স্বজনকে খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পন্য কিভাবে দিবেন: বন্দিকে বাহিরে কোন খাবার দেয়া যায় না। কোন খাবার দিতে হলে ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে বাহিরের এবং ক্যান্টিন থেকে ক্রয়কৃত খাবার সরবরাহ করা হয়। খাবার সরবরাহের একটি স্লিপ সাক্ষাৎপ্রার্থিকে প্রদান করা হয়। **খাবার সরবরাহে জেল কর্তৃপক্ষ খুব সাবধানতা অবলম্বন করে।

বন্দি স্বজনকে টাকা দিবেন যেভাবে: জেল এ বন্দি স্বজনদের জেলের অভ্যন্তরে খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পন্য ক্রয়ের জন্য টাকা দেয়া যায় তবে তা সরাসরি দেয়া যায় না এবং দিতেও পারবেন না। বন্দি স্বজনকে টাকা দেবার জন্য জেলগেটে সাক্ষাৎ আবেদন স্থানে টাকা নেবার জন্য দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত সিকিউরিটি এর সাথে কথা বলে টাকা দেয়া যাবে। টাকা দেবার সময় সিকিউরিটি টাকার পরিমাণ বুঝে নিয়ে একটি রশিদ সাক্ষাৎকারীকে প্রদান করবেন, পরবর্তি এক ঘন্টা পর তা বন্দিকে দেয়া হবে।

যেভাবে মাদারীপুর জেলখানা পরিদর্শন করতে যাবেন: মাদারীপুর নতুন বাসস্ট্যান্ড বা পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে রিক্সা, ভ্যান বা ব্যাটারিচালিত যে কোন যানবাহনে করে সরাসরি মাদারীপুর জেল পরিদর্শনে যেতে পারবেন ভাড়া: ৫০-৭০ টাকা মাত্র। বাসস্ট্যান্ড থেকে ব্যাক্তিগত কোন যানে যেতে চাইলে মাদারীপুর এর যেকোন জায়গা থেকে ইটেরপুল স্ট্যান্ড, এখান থেকে যেকোন কাউকে জিজ্ঞাসা করলেই দেখিয়ে দিবে কোন দিকে আপনার গন্তব্যের পথ। তাছাড়া গুগুল ম্যাপতো আপনার সেবায় নিয়োজিত।

মাদারীপুর জেলা কারাগার এর ওয়েবসাইট (https://prison.madaripur.gov.bd) এর লিংক >> https://prison.madaripur.gov.bd/bn/site/page/সেবার-তালিকা থেকে প্রাপ্ত প্রয়োজনীয় তথ্য যা সাধারণ জনগনের প্রয়োজনে আসে তা উপরে উপস্থাপন করা হয়েছে। উপরিউক্ত লিংকে আজ জুলাই ২৩, ২০২৫ তারিখে প্রাপ্ত পিডিএফ ফাইটি পড়ার সুবির্ধার্থে নিচে সংযুক্ত করা হল। ব্লোগের কোন বিষয়ে বিস্তারিত জানতে কমেন্ট করুন। ব্লোগে কোন তথ্যে বুঝতে অসুবিধা হলে অবশ্যই https://prison.madaripur.gov.bd লিংকে যে তথ্য যাচাই করে নিবেন। আমার লিখিত উপরের কোন তথ্যে ভুল থাকলে সংযুক্ত পিডিএফ ফাইল পড়ে যাচাই করে নিবেন, উপরের কোন তথ্য থেকে পাঠক ভুল বুঝে থাকলে তার জন্য লেখক দায়ী না। সরকারি যেকোন তথ্য জানতে ৩৩৩ এ কল দিতে পারেন।

* বিভিন্ন বন্দির ক্ষেত্রে বিভিন্ন নিয়ম। সংযুক্তি দেখার জন্য অনুরোধ রইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *