কমলাকান্তের জোবানবন্দী পড়ার পর একবার কোন এক এজলাসে বসার সুযোগ হয়েছিল। সেখানে বসে পুরো দিন কমলদের কাজ-কারবার দেখে মনে হলো লেখক তার লিখনিতে এনালগ নিরাপত্তা আইনের ভয়ে অনেক কাটছাট করে অল্পকিছু লিখেছিলেন।
*আমি যা কিছু দেখলাম তার কিছু নোট আপনার দেখার জন্য লিখলাম:
১. কোর্টে একটি ডকুমেন্ট সংযুক্ত করে জজ সাহেবের নিকট পাঠানো হয়েছে। জজ সাহেব জিজ্ঞাসা করলেন ডকুমেন্ট কোথায়। উকিল গলা লম্বা করে জানালো সবার শেষে। জজ সাহেব দেখালেন বললেন “এই যে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ছাড়া এই ডকুমেন্ট?”
এখানে মুহুরী, উকিল, পেশকার তিন ধাপ পাড় হয়ে কোর্টে গেল স্বাক্ষর ছাড়া।

২. শুনানী হচ্ছে; বাদী পক্ষের বক্তব্য শুনে জজ সাহেব দাগ-খতিয়ান নিয়ে বিবাদী উকিলকে জিজ্ঞাসা করলে উকিল ভুল উত্তর দিচ্ছিলেন। এতে জজ সাহেব বললেন আপনি কি বলছেন কিছুইতো মিলছে না।
: আমি পড়ার সময় পাই নাই। (উকিলের উত্তর)
৩. পেশকার একটার পর একটা মামলার নাম্বার ডেকে যাচ্ছেন এবং শুনানী হচ্ছে, একটি মামলার নাম্বার বারবার ডাকার পরেও কেউ যখন সাড়া দিচ্ছিলনা তখন পেশকার বাদীর নাম বললেন; সাড়া নাই,
বিবাদীর নাম বললেন; সাড়া নাই।
বাদীর উকিলের নাম বললেন সাড়া নাই,
বিবাদী উকিলের নাম বলার সঙ্গে সঙ্গে একজন দারিয়ে বললেন আমি আমি।
জজ সাহেব: কিসের আমি আমি!!
উকিল: স্যার আমার নাম ধরে পেশকার ডাকলেন।
জজ সাহেব: আপনি কোন মামলার জন্য এখানে আসছেন?
উকিল: এ উম ইম নাম্বারটা জানি না।
জজ সাহেব: ৪/২০?
উকিল: হ্যা হ্যা, নতুন মামলা তো তাই নাম্বার মনে নাই…
৪. শুনানী হচ্ছে বাদীর উকিল সব বলার পর বিবাদী উকিলকে জজ সাহেব বিবাদীদের পক্ষে জানতে চাইলেন।
উকিল: আজ বাদীর উকিল টাইম পিটিশন করবে তাই আমি মামলার আরজি পড়ি নাই।
জজ সাহেব: !!!
৫. মামলার নাম্বার বলার সঙ্গে সঙ্গে উকিল লাফ দিয়ে উঠে বিস্তারিত বলতে থাকলে জজ সাহেব জিজ্ঞাসা করলেন এই মামলার বিগত শুনানী কত তারিখে ছিল?
উকিল: এ উম ইম..
জজ সাহেব: আপনি আজ যা বলছেন এটা কি আজ নির্ধারিত ছিল?
উকিল: এ ইম উম..
আমি এসব আর দেখতে পারলাম না, বড় ভাই ডাকছিল তাই চলে আসলাম। ভাবতে লাগলাম আজ জজ সাহেবের কাছে বেত থাকলে সবগুলোকে পিটিয়ে ওকালতি শেখাতেন।
গ্রামে-গঞ্জে এসব উকিলদের কারনে মুরুব্বিরা বলেন:
যার নাই কোন গতি
সে করে ওকালতি,
যার নাই কোন দিক
সে হয় সাংবাদিক।
*পুরো লেখা কাল্পনিক, স্বপ্নে এমন লেখা পাওয়া গেলে বা কারো সাথে মিলে গেলে তা একান্তই বকতালীয় বা কাকতালীয় মাত্র বলে বিবেচিত হবে। -লেখক
