ক্রাঙ্ক ফ্রন্ট গিয়ারমাঝের গিয়ারটি বেশি ক্ষয় হচ্ছে

যারা রেগুলার বাইসাইকেল কমিউটিং করেন তারা দেখেন যে সামনের তিনটি গিয়ারের মাঝের গিয়ারটি আগেই ক্ষয় বা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ছোট এবং বড় গিয়ারের চেয়ে মাঝের গিয়ারটি বেশি ক্ষয় হচ্ছে বা অন্য দুটির চেয়ে মাঝের গিয়ারটি আগে ক্ষয় হয়ে যায়। যা রেগুরার বাইসাইকেল কমিউটিং এর ব্যয় বৃদ্ধি করে।

রেগুলার বাইসাইকেল কমিউটিং কিছু প্রাকটিস অজানা থাকায় ক্রাংকের মাঝের গিয়ার বা সামনের গিয়ার বা প্যাডেল এর মাঝের গিয়ার আগে নষ্ট হয় বা ক্ষয় হয়ে যায়। প্যাডেলের যে কোন একটি গিয়ার অর্থাৎ আলোচিত মাঝের গিয়ারটি নষ্ট হলে পুরো ক্রাংক সেটটাই রিপ্লেস করতে হয়। ক্রাংক রিপ্লেস একটি ব্যয়বহুল সার্ভিস। এই ব্যয় কিভাবে নিয়ন্ত্রন করা যায় এবং সামনের সকল গিয়ার অর্থাং প্যাডেলের সকল গিয়ার যেভাবে ব্যবহার করা সম্ভব তা নিয়েই ব্লগে এই আলোচনা।

আলোচনার সুবিধার্থে (১-1) প্রথম “১” কে সামনের গিয়ার/ ক্রাংকের গিয়ার/ প্যাডেল এর গিয়ার বলা হবে, শেষের “-1” কে পিছনের গিয়ার/ ফ্রি হুইল বলা হবে। আলোচিত সাইকেলের সামনে তিনটি ও পিছনে আটটি গিয়ার হিসেবে আলোচনা করা হল যার সর্বনিম্ন গিয়ার (১-1) সর্বোচ্চ গিয়ার (৩-8(আট))।

মাঝের গিয়ার ইচ্ছা না থাকা শর্তেও অনেক বেশি ব্যবহার করা হয়। কারণ সামনের প্রথম গিয়ার থেকে তৃতীয় গিয়ারে যেতে এবং তৃতীয় গিয়ার থেকে ১ম গিয়ারে আসতে মাঝের গিয়ার অনিচ্ছাকৃত ব্যবহার করতেই হয়
। আবার প্রাথমিক ভাবে অনেকে মাঝের গিয়ারটিই ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। তাই একান্ত প্রয়োজন না হলে মাঝের গিয়ার অল্প ব্যবহার করলেই ক্রাংক বহৃদিন ব্যবহার করা সম্ভব। নিচে অল্পকিছু টিপস আপনাদের জ্ঞাতার্থে শেয়ার করা হল।

চালানো শেষে ১-1 এ রাখা: রাইড শেষে সাইকেল এর গিয়ার ১-1 রাখতে হবে। সাইকেল গিয়ার কম্বিনেশন আগে থেকে জেনে থাকলে এই ব্লগের আলোচনা অনেকটা অপশনাল। আপনি আগে থেকে অনেক কিছু জানেন।

রাইড শুরুর দিকে ১-1 দিয়ে রাইড শুরু করা: বাইসাইকেল রাইড শুরুর দিকে ১-1 দিয়ে শুরু করা সাইকেল ভালো রাখার গুড প্রাকটিস। অন্যান্য সকল যানবাহন শুরুতেই গিয়ার আপ করে চালায় না, সাইকেলের ক্ষেত্রে ভিন্ন কিছু নয়। অন্যান্য যানবাহন ইঞ্জিন চালিত গিয়ার, আর বাইসাইকেল মানব চালিত গিয়ারে চলে। তাই রাইড শুরুর দিকে গিয়ার ১-1 এ থাকে সাইকেলের জন্য উপকারি।

রাইড শুরুতেই গিয়ার হুটহাট বৃদ্ধি না করা: রাইড শুরু করার পরেই বুঝতে পারবেন সাইকেলের গিয়ার বৃদ্ধির প্রয়োজন কি/না। স্পিড বৃদ্ধির প্রয়োজন এবং পরিবেশ সৃষ্টি হলে হুট করে গিয়ার বৃদ্ধি করবেন না। স্টেপ বাই স্টেপ এক এক যেমন ১-1, ১-2, ১-3, ২-4, ২-5, ২-6, ৩-6, ৩-7, ৩-8(eight) (সামনে ৩ এবং পিছনে 8(eight) গিয়ার হিসেবে) এভাবে গিয়ার বৃদ্ধি করবেন।

স্পিড বৃদ্ধি জন্য ভালো পথ এবং ফাকা রাস্তা বেছে নিবেন: ঢালু রাস্তায় উঠার সময়, ভাঙ্গাচোরা রাস্তায় এবং জনাকীর্ন পথে সর্বোচ্চ গিয়ারে চালাবেন না এবং স্পিড বৃদ্ধির চেষ্টা করবেন না। এতে গিয়ার চেইনে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়, যা দ্রুত ক্ষয় বৃদ্ধি করে। এতে চালকের বেশি এনার্জি ব্যয় হয় যা লং রোডে ক্লান্তি নিয়ে আসে। আর সাইকেলের ১২টা বাজে।

সমতল রাস্তায় ৩-8(eight) (সর্বোচ্চ গিয়ার) দিয়ে চালানো: সমতল এবং ঢালু রাস্তায় নামার সময় সর্বোচ্চ গিয়ারে সাইকেল চালাতে কোন সমস্যা নাই তবে খেয়াল রাখবেন জনাকীর্ন পথে স্পিড নামিয়ে আনতে।

চেইন পরিষ্কার রাখা: বাজারে বিভিন্ন মানের ও দামের চেইন পাওয়া যায়। ইউটিউব এবং অন্যান্য মারফতে সাইকেল পরিষ্কার রাখার বিভিন্ন সুবিধা সম্পর্কে জানতে পারবেন। চেইনের দাম যেমনই হোক চেইন আপনাকে কমদামি দাঁত মাজার ব্রাস দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। বাজারে এন্টিরাস/ এন্টিডাস্ট বা রাস্ট প্রুফ চেইন পাওয়া যায় তবে দেশে ধুলাবালুর পরিমাণ বেশি হওয়ার কারণে ডাস্ট অর্থাৎ ধুলা- ময়লা হবেই। তাই বেশি দাম দিয়ে চেইন না কিসে ভালো মানের চেইন ব্যবহার করবেন এবং নিয়মিত পরিষ্কার রাখবেন।

সামনের ও পিছনের গিয়ার পরিষ্কার রাখাঃ সামনের গিয়ার অর্থাৎ ক্রাঙ্ক এবং পিছনের গিয়ার ব্রাস দিয়ে পরিষ্কার রাখবেন। দোকান থেকে পানি আর সাবান দিয়ে পরিষ্কার করার চেয়ে বাসায় ব্রাস, ভেজা কাপড় দিয়ে সাইকেল পরিষ্কার রাখা সহজ ও অর্থ সাশ্রয়ী। পানি দিয়ে সাইকেল পরিষ্কার করলে সাইকেলের মেয়াদ দ্রুত শেষ হয়ে যায়। ক্রাংক রাস্ট প্রুফ বা এন্টিরাস্ট যাই হোক না কেন খরচ কমাতে চাইলে পরিষ্কার রাখতেই হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *