সেদিন কে যেন আমাকে নাস্তিক বলল।

আমি অবাক হলাম। ভাবলাম সে আমার ব্যপারে জানল কিভাবে! আমার সাথে তার কথা হয়েছিল কিনা তা ভাবছিলাম। এরই মধ্যে সে আবার আমাকে নাস্তিক বলে গালি দিল, গালি না সম্বন্ধন বুঝতে পারলাম না।
আমি নাস্তিক এর সজ্ঞা মনে করার চেষ্টা করছিলাম। আমি আল্লাহ্‌ আল্লাহ্‌ করছিলাম যাতে মনে পরে সজ্ঞাটি। নাহ মনে পড়ল না। আমি চোখ বন্ধ করে ভাবতে লাগলাম আমার মাথায় কোন কিছুই কাজ করছে না, এখন কি করব। আমি ত নামাজ পরি, নামাজ পরতেও বলি। কিন্তু সে আমাকে নাস্তিক বলল কেন।
অহ্ খুব সহজ হয়ত সে নাস্তিকের সজ্ঞা জানে না। তাই আমাকে বলে ফেলছে। যাক আমি কিছু বলব না আমি আল্লাহ্‌ এর কাছে ছেড়ে দিলাম।
আল্লাহ্‌ তুমি আমাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সমৃদ্ধি দান কর, আমি চাই তুমি আমাকে ক্রমবর্ধমান উন্নতি দান কর।

সেদিন কে যেন আমাকে নাস্তিক বলল। কথাটি শুনে আমি থমকে গেলাম। অবাক হয়ে ভাবতে লাগলাম, সে আমার সম্পর্কে এমন ধারণা পেল কোথা থেকে! আমার সাথে তার কোনো গভীর আলোচনা হয়েছিল কিনা, তা মনে করার চেষ্টা করলাম। কিন্তু যতই ভাবি, ততই বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি। এরই মধ্যে সে আবার আমাকে নাস্তিক বলে সম্বোধন করল। আমি বুঝতে পারলাম না, এটি কি গালি, নাকি তার কোনো বিশেষ মতামত।

আমি তখন নাস্তিক শব্দটির সজ্ঞা মনে করার চেষ্টা করছিলাম। মনে মনে আল্লাহ্‌র নাম জপতে লাগলাম, যেন সজ্ঞাটি মনে পড়ে। কিন্তু যতই চেষ্টা করি, ততই মনে হয় আমার মস্তিষ্ক যেন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। আমি চোখ বন্ধ করে গভীরভাবে ভাবতে লাগলাম। মনে হলো, আমার চিন্তাশক্তি যেন কোথাও আটকে গেছে। এখন কী করব, তা বুঝতে পারছিলাম না।

আমি তো নিয়মিত নামাজ পড়ি। শুধু তাই নয়, অন্যদেরও নামাজ পড়তে উৎসাহিত করি। তাহলে কেন সে আমাকে নাস্তিক বলল? এই প্রশ্নটি আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দিল। আমি ভাবলাম, হয়তো সে নাস্তিক শব্দটির প্রকৃত অর্থ জানে না। হয়তো তার অজ্ঞতার কারণেই সে আমাকে এমন বলেছে।

তবে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, এ নিয়ে আমি কোনো তর্কে যাব না। আমি বিষয়টি আল্লাহ্‌র ওপর ছেড়ে দিলাম। আল্লাহ্‌ সবকিছু দেখেন এবং জানেন। তিনি আমার অন্তরের কথা জানেন। আমি তার কাছে প্রার্থনা করলাম, “আল্লাহ্‌, তুমি আমাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সমৃদ্ধি দান কর। তুমি আমাকে ক্রমবর্ধমান উন্নতির পথে পরিচালিত কর।”

এই ঘটনার পর আমি উপলব্ধি করলাম, মানুষের কথায় প্রভাবিত না হয়ে নিজের বিশ্বাসে অটল থাকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি ভুল ধারণা নিয়ে কিছু বলে, তাতে নিজের আত্মবিশ্বাস হারানো উচিত নয়। বরং, আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাস রেখে নিজের পথে এগিয়ে যাওয়া উচিত।

এই অভিজ্ঞতা আমাকে আরও শক্তিশালী করে তুলল। আমি শিখলাম, মানুষের মন্তব্য কখনো কখনো তাদের অজ্ঞতা বা ভুল বোঝাবুঝির ফল হতে পারে। তাই সেগুলোকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের বিশ্বাস এবং কাজের প্রতি মনোযোগী হওয়া উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *