পৃথিবীর দ্বিতীয় সহজ কাজটি হল অভ্র দিয়ে বাংলা টাইপ। তাহলে পৃথিবীর প্রথম সহজ কাজটি কি? সহজ কাজটি দেখতে চলে যান এই পোস্টের সবার নিচে 👇👇🔻👇👇।

অভ্র দিয়ে টাইপ শিখতে প্রথমে কিছু শিরোনাম এবং আমরা বাংলা আসার আগে কিভাবে বাংলায়! লিখতাম তা একটু মনে করি। এসব কথার মাঝেই আমাদের অভ্র শেখা হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ্। যখন বাংলা লেখার সুযোগ ছিল না তখনও আমরা বাংলা লিখতাম, বাংলা লিখতে ইংরেজি অক্ষর ব্যবহার করতাম যেমন Ami Banglay Likhi. এমন ইংরেজি অক্ষর দিয়ে বাংলা লেখা তখনকার দিনে আর্ট হিসেবে পরিচিত ছিল তবে অল্প কিছু ইউজার ইংরেজি অক্ষর দিয়ে বাংলা লিখতে গিয়ে ’মুরাদ টাকলা ভাষা’ করে ফেলত।
আর্ট হিসেবে যেসব ইংরেজি দিয়ে বাংলা লেখা ছিল তা দিয়েই বাংলা লেখা শুরু হয়ে গেল। এর জন্য অভ্র এগিয়ে এলো সবার জন্য খুব সহজে বাংলা লেখার জন্য। যারা তখন ইংরেজি অক্ষর দিয়ে সুন্দর বাংলা লিখতে জানতো তাদের জন্য অভ্র আলাদা করে শেখার প্রয়োজন হল না। কারণ অভ্র এত সহজ যে আমার ছাত্রদের আমি ১০ মিনিটের একটি ক্লাসে অভ্র শেখাই, এরপর তারা অভ্র সম্পর্কে ২য় কোন প্রশ্ন করে না, নিজেরাই বাকিটা শিখে নেয়।
অফিস প্রোগ্রাম কোর্স হোম সার্ভিস পেতে লিংকে দেখুন।
তো এখন চলুন অভ্র দিয়ে আপনি কিভাবে শুরু করবেন বা লিখবে, তার তালিকা নিচে দেয়া হল (মোবাইলে লেখার জন্য) ।
- রিদ্মিক/ হৃদ্মিক কী বোর্ড ইন্সটল করুন।
- অভ্র লেআউট সিলেক্ট করুন। (স্পেস বার চেপে ধরে অভ্র আনতে হয়)
কম্পিউটারে (laptop or desktop) বাংলা লিখতে অভ্র ডাউনলোড করে ইন্সটল করে নিন।
- অভ্র ইন্সটল হলে F12 ফাংশন কী প্রেস করুন।
আপনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত খুব সহজেই বাংলা লেখার জন্য।
ইংরেজি যে অক্ষরে বাংলা কোন অক্ষর হয় তার টেবিল নিচে দেয়া হলঃ

Accent Key এটা কী-বোর্ড এর Tab এর উপরে থাকে, ’1’ বা ’!’ চিহ্নের বাম পাশে থাকে।
ৎ টাইপের ক্ষেত্রে t প্রেস করে দুইবার Accent Key চাপতে হবে।
কিছু ক্ষেত্রে ’A’ প্রেস করে ’আ’ লিখেতে চাইলেও ’য়া’ হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে ’Accent Key’ চেপে ’A’ চাপতে হয়।
্ হসন্ত লিখতে একটি কমা দুইবার চাপতে হবে।
ইংরেজি অক্ষর দিয়ে বাংলা লেখার ইচ্ছাটাই মূল এ থেকেই অভ্র এ উৎপত্তি। অভ্র শব্দটির অর্থ আকাশ যা সীমাহীন, অভ্র শব্দ দ্বারা বাংলা লেখার দ্বার সকলের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্দ্যেশেই নামকরনে অভ্র করা হয়েছে। উপরের টেবিলে ইংরেজি ছোটহাতের (LowerCase) অক্ষর ও বড় হাতের (UpperCase) অক্ষর দেয়া আছে। ছোট হাতের ’d’ চাপলে ’দ’ হয় আবার ’D’ চাপলে ’ড’ হয়। এমন কয়েকটি নিয়ম একবারের বেশি দুইবার দেখার প্রয়োজন হয়না অভ্র ব্যবহারকারীদের।
অভ্র সম্পর্কে সব জানতে দেখতে পারেন অভ্র এর অফিসিয়াল সাইট অমিক্রনল্যাব ওয়েবসাইটটি
অভ্র দিয়ে টাইপ করার সময় দুটি অক্ষর না চাইলেও যুক্ত হয়ে যায়। এটিকে অনেকে সমস্যা মনে করেন, আসলে এটি কোন সমস্যা না। আপনি যখন দুটি অক্ষর যুক্ত করতে চাইবেন তখন শুধুই লিখে যাবেন অভ্র অক্ষরগুলো যুক্ত করে দিবে। আর যখন চাইবেন যে শব্দদুটি যুক্ত না হোক, তখন টাইপ করার সময় দুটি অক্ষরের মাঝে প্রথমটি টাইপ শেষ করে দ্বীতিয় অক্ষর টাইপ করার আগে ইংরেজি ’o’ প্রেস করবেন। এভাবে ইংরেজি ’o’ প্রেস করার মাধ্যমে আপনি দুটি শব্দকে (শবদকে) (এখানে ’ব’ এবং ’দ’ কে ’o’ প্রেসে করে যুক্ত হতে দেয়া হয় নাই) যুক্ত হতে বাধা দিতে পারবেন। কেন বারবার ইংরেজি ’o’ প্রেস করবেন? কারণ অভ্র উচ্চারণ ভিত্তিক টাইপ সফটওয়ার। যেসকল ব্যাঞ্জন বর্ণ এর উচ্চারণ শেষ ’ও’ উচ্চারন হয় তার শেষে ’o’ দিবেন, তাতে করে অক্ষর ’ও’ শব্দটি পরিপূর্ণ হয়। এবং আপনি যখন অভ্র দিয়ে দ্রুত টাইপ করবেন তখন বারবার ’o’ ব্যবহার কোন সমস্যা মনে হবে না কারণ আপনি ইতিমধ্যে জেনেছেন যে বেশ কিছু শব্দের পর ’ও’ উচ্চারিত হয়।
কিছু কিছু সময় ভিন্ন কিছু শব্দ টাইপ করার সময় সমস্যার সৃষ্টি হয় বলে কিছু ব্যবহারকরি মনে করেন। এগুলো হলে ’Accent Key’ ব্যবহার করে সমাধান করা যায়।
বেশিরভাগ যুক্তাক্ষর উচ্চারণ ভিত্তিক ইংরেজি অক্ষর টাইপ করলে লেখা হয়ে যায়। কিছু যুক্তাক্ষর ব্যতিক্রম হবার কারণে লিখতে ঝামেলা হয় তার কিছু নিচে তালিকা করে দেয়া হল। অল্প কিছু যুক্তাক্ষর অভ্র দিয়ে কিভাবে লিখে তার নিচে দেয়া হল:
হ্ম= hm = হ+ ম । উদাহরণ:- ব্রাহ্মণ
ট্ট= TT = ট+ ট । উদাহরণ:- ভুট্ট সাহেব
ক্ষ= kkh or kx=ক+ ম । উদাহরণ:- ক্ষমা
ঞ্চ= nc or NGc= ঞ+ চ । উদাহরণ:- চঞ্চল
ক্ম=km = ক+ ম। উদাহরণ:- রুক্মিণী
ত্থ= tth = ত+ থ। উদাহরণ:- অশ্বত্থ
ক্ষ্ম= kkhm or kxm = ক + ষ + ম । উদাহরণ:- লক্ষ্মী
জ্ঞ= gg = জ + ঞ । উদাহরণ:- জ্ঞান
হৃ= hm । উদাহরণ:- হৃদয়
ত্ম= tm = ত+ ম । উদাহরণ:- আত্মা
গ্ম= gm = গ+ ম। উদাহরণ:- বাগ্মী
ষ্ণ= ShN =ষ+ ণ । উদাহরণ:- উষ্ণ
ঞ্জ= nj or NGj = ঞ+ জ । উদাহরণ:- গুঞ্জন
ত্ত্ব= ttw = ত+ ত+ ব। উদাহরণ:- তত্ত্বাবধায়ক
ব্ধ= ddh = ব+ধ । উদাহরণ:- উপলব্ধি
ষ্ক= Shk = ষ+ ক । উদাহরণ:- পরিষ্কার
ষ্ম=Shm = ষ+ ম। উদাহরণ:- গ্রীষ্ম
হ্ন= hn = হ+ ন। উদাহরণ:- চিহ্ন
ন্ম= nm = ন+ ম। উদাহরণ:- জন্ম
ক্ত্র= ktr = ক + ত + র।
ক্র= kr = ক + র
ক্ষ্ব= kkhw = ক + ষ + ব
ক্ষ্ন= kkhN = ক + ষ + ব।
ক্ষ্য= kkhy = ক + ষ + ব।
ক্র= ks = ক + স
গ্ণ= gN = গ + ণ
ঙ্ম= Ngm = ঙ + ম
চ্ছ্র= cchr = চ + ছ + র
চ্ঞ= cNG = চ + ঞ
জ্জ্ব= jjw = জ + জ + ব
জ্ঝ= jjh = জ + ঝ
ঙ্ক= Ngk = ঙ + ক
ঙ্ক্য= Ngky = ঙ + ক + ্য
ঙ্ক্ষ= Ngkkh = ঙ + ক + ষ
ঙ্হ= Ngh = ঙ + হ
ঙ্গ = Ngg = ঙ + গ।

পৃথিবীর প্রথম সহজ কাজটি হল: সোসাল মিডিয়ায় অনর্গল স্ক্রল করে করে যাওয়া, একটির পর একটি পোস্ট, ভিডিও, শর্টস/ রিল দেখা। 🙁