দুজনের খবরই আমার অজানা

এক সকালে এক পরিচিত কল দিল এবং অসংলগ্ন কথা বলতে শুরু করলো, পরে বললাম আজাইরা কথা বাদ দিয়া আসল কথায় আস, সে জানালো আমি বিয়ে করেছি কাউকেই জানাই নাই।
ধুর সকাল সকাল ঘুম ভাঙ্গাইয়া ডিস্ট্রাব, আবার ঘুম।
যে এলাকার মেয়ের কথা বলছিলো তাকে আমি চিনি। কোন এক সময় ভালো লাগতো এখনো ভালো লাগে তবে তখন দুজন দুজনকে এখন শুধু আমিই। তাও মাঝে মাঝে মনে পড়ে। শৈশব আর কৈশর সেখানেই কেটেছিল তাই সে জায়গার মায়া ছাড়তে পারি না। অবশ্য সেখানের অনেক সকাল তাকে ঘিরেই। কোন সময় সকালে উঠতে পারতাম না শুধু তাকে এক নজর দেখার জন্য ফজরের আজানের আগে উঠতাম। নামাজ পড়তাম তার বাবার সাথে একই কাতারে আমি এমনিতেই ভালো ছেলে তার উপর অন্যান্য নামাজের সাথে ফজরের নামাজ আদায় করায় আমাকে কাছে ডেকে অনেক হাদিস শুনাতেন, আর সকাল সকাল জাগার উপকারীতা জানাতেন। আর আমি তো শুধু তার মেয়েকে এক নজর দেখার জন্যই উঠতাম সে তো জানতো না প্রথমে পরে অবশ্য জানতে পারছে, কিন্তু ততদিনে আমাদের বাসস্থান পরিবর্তন করার কারনে দুইশ কিলো মিটারের মত দূরত্ব হয়ে গেল। মানে যোগাযোগ কম হয়ে শুধুই মোবাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলো। বিভিন্ন কারণেই হোক আর চোখের আড়াল মানে মনের আড়াল হোক আমাদের মধ্যের সম্পর্কের গভীরতা শীথিল হয়ে গেল, তার কোন খবর আমি পেতাম না, অবশ্য সে সময় পেলে বিভিন্ন আত্ত্বিয় স্বজনদের মোবাইল থেকে কল ম্যাসেজ দিয়ে খবর নিত।
কিন্তু বেশিদিন আর টিকলো না, তার কথা বার্তায় আমূল পরিবর্তন। ….
এরকম আরো কিছু কল পেলাম অই বিরক্তিকর কলের পর। সবাই একই কথা, আমিও একেক জনকে হ্যা/না বলে মজা নিতাম। আর বেচারার কথা ভাবতাম, তাকে জানাতেও পারছিলাম না এমন কেন হচ্ছে।
শৈশব এর এলাকায় বেড়াতে গিয়েছিলাম এসব কলের পর, অবশ্য ইন্সপেকশনে যাইনি, গিয়েছিলাম ছুটি কাটাতে। সেখানের যে মুরুব্বিদের সালাম দেই সেই আমার বউ এর খবর নিতে চায়। আর আমি তো তাদের বুঝাইতে বুঝাইতেই ছুটির বারোটা। বন্ধুরা জানালো এদের সাথে পারবেন না, আপনি চলেন ঘুড়তে। ঘুড়ে আসলাম আর বিরক্তিকর কল গুলো রিসিভ করে ধমকের সাথে বুঝায়া দিলাম।
বেশ কিছুদিন এই গুজবের সাথে ছিলাম, এখন মাঝে মাঝে কজন সুভাকাঙ্খি আমার আর তার নয়তো ভবিষ্যৎ বধুর খবর নেয়। দুজনের খবরই আমার অজানা।
তথ্যটি শেয়ার করুন

One comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Welcome...
Have you face any kind of problem just comment.