গ্রামের বিয়ে সাধারণত ঈদের পর আয়োজন করা হয়। ঈদের পর আয়োজনের উদ্দেশ্য হল বেশি মানুষকে দাওয়াত দেয়া যাবে। বেশি মানুষ দাওয়াত দেবার আরেকটি ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে। বিয়েতে ছেলে/মেয়ের বাবা-মা বেশ খরচ করে বিয়ে দেন এবং তা প্রতিদিন এবং বিয়ের ১০-২০ বছর পর্যন্ত সে টাকার এমাউন্ট বলে বেড়ান। আপনার সন্দেহ হতে পারে এত টাকা তারা পেল কোথায়। আমিও জানতে চেয়েছিলাম তারা জানালো ধার করে আয়োজন করব এবং বিয়েতে দাওয়াত বেশি দিব যাতে সবাই বেশি বেশি করে টাকা দেয় সে টাকা দিয়ে পরিশোধ করে দিব। এখন নিশ্চই বুঝতে পেরেছেন ঈদের পর কেন বিয়ের অনুষ্ঠান করা হয়। একটি মাত্র উদ্দেশ্য? না আরো আছে। কে কত টাকা দিলো এবং কে কত টাকার উপহার সামগ্রী দিল তার তালিকা করা হয়, এবং এই তালিকা যুগযুগ ধরে সংরক্ষণ করা হয়। আমি কিছু তালিকা করেছিলাম হাতের লেখা ভালো না হওয়ায় তাদের টাইপ করে দিয়েছিলাম তারা সেটি দেখে দেখে একশন! (কোন একশন লেখা শেষে বুঝবেন) নেয়। এই তালিকায় যারা নাম লেখায় তারা বিয়ের আয়োজকদেরও কোন না কোন ভাবে তাদের কোন বিয়ের অনুষ্ঠানের ফাদে ফেলেছিল, বিয়ের আয়োজকরা যে পরিমান টাকা দিয়েছিল সেই পরিমাণ টাকা তারা দিবে বা নিজেদের দাম বৃদ্ধির জন্য বেশি এমনকি দ্বিগুন তিনগুন টাকা দিবে (এটি তারা দিবে পরবর্তিতে ফিরে পাবার জন্য, এমনি এমনি না)। উক্ত তালিকার থেকে যখন কোন বিয়ের দাওয়াত যখন বিয়ের আয়োজক/রা পাবেন তখন তালিকা বের করে দেখা হবে তারা কত টাকা দিয়েছিল সেই পরিমান টাকা এবং লোকজন নিয়ে তারা দাওয়াত খেতে যাবেন। এখানে উল্লেখ্য সবাই এটা জানে এবং বুঝে এবং এতে আর্থিকভাবে সমর্থ নয় এমন পরিবারের লজ্জার শেষ থাকে না তারা ধার করতে না পারলে সমাজে তাদের মাথা কাটা যায়। তবে এখানে এমন কিছু লোক আছে যারা হোটেলে যেমন বিল আসে তেমন একটা লামসাম বিল দিয়ে চলে আসে এবং এই পরিবারগুলো কখনোই তাদের ছেলেমেয়ের বিয়েতে এমন ফাউল আয়োজন করে না।
