গত শনিবার অফডে থাকায় নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষার করার জন্য একটি অলাভজনক (ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল) প্রতিষ্ঠানে গিয়েছিলাম। আজকের তারিখ ০৮-০২-২০২০।  ভালো সুশ্রিঙ্খল পরিবেশ। একটু ঘুড়ে ফিরে দেখলাম কোন ঝামেলা আছে কি/না। সব সুন্দর করে গোছানো। ঢাকা শহরে এমন পরিবেশ পেলে আসতে হবেই, করণ অনেক ভালো মানের পোষাক পড়ে লোকজনও একই লাইনে দাড়িয়ে চিকিৎসার জন্য রেজিস্ট্রেশন করছে। মানে এখানে সেবার মান খুবই ভালো।

বিভিন্ন ধাপ শেষ করে যখন শিক্ষানবিশ ডাক্তারের কাছে গিয়ে দাড়ালাম তখন তিনি একজন রেগির সাথে কথা বলছেন আমি এদিক সেদিক দেখলাম কারণ আমার বসার যায়গা আপাতত অন্য কেউ বসে ছিল। ক্রমিক নং এ তিন ছিলাম আমি। আমার আগের সব রোগির সাথে খুব ভালো ব্যবহার করে শিক্ষানবিশ ডাক্তার বিভিন্ন চেম্বারে রোগিদের রেফার করছিল। এরপর আমার পালা বসলাম তিনি খুবই আন্তরিকতার সাথে কথা বলতে শুরু করলেন। একপর্যায়ে তিনি আমার চশমা পরিক্ষা করার জন্য নিয়ে বের হলেন সাথে নতুন আসা অন্য এক রেগি থেকেও তার চশমা চেয়ে নিলেন এবং পরিক্ষা করার জন্য চলে গেলেন। এরপর এলো এক নিরেক্ষক তিনি প্রতি সেলে প্রতি শিক্ষানবিশ কি পরিমান রোগিকে সেবা প্রদান করতে পেরেছে তার লিস্ট বলছিল এবং সর্বশেষ সর্বোচ্চ সেবাদাতার সেবা সংখ্যা বলছিল। সংখ্যাটি ছিল ৮১ মানে একাশি জনকে কোন এক শিক্ষানবিশ সেবা দিয়েছেন সকাল ৭.৩০ থেকে দুপুর ১.১৫ পর্যন্ত। আমাকে যিনি সেবা প্রদান করছিলেন তিনি তখনো আসেননি। আর তথ্য সংগ্রহকারী উকি দিয়ে রেজিস্ট্রার খাতা দেখতে যাবেন এমন সময় শিক্ষানবিশ ডাক্তার এলেন এবং তিনি তথ্য সংগ্রহকারীকে তথ্য দিলেন যে তিনি ৬১ জনকে সেবা দিয়েছেন।

তার মানে ৬১ জনকে সেবা দিয়েও তিনি এমন একটি ভালো মানের সেবা আমাকে দিচ্ছেন কিছু অবাক হতেই হল। এরপর তিনি শুরু করলেন আমি কতটুকু দেখতে পাই তা। ইংরেজি অক্ষর ছিল তাই বলতে সুবিধাই হচ্ছে। এতবার তিনি আমার লেন্স চেঞ্জ করে পরীক্ষা করছেন যে আমার সর্বশেষ লাইন মুখস্ত হয়ে গিয়েছিল। তাই পরের বার লেন্স পরিবর্তন করার পরে বললাম সব মুখস্ত হয়ে গেছে এখন না দেখেও বলতে পারব। এটা শুনে আমার ডানে এবং বামে থাকা সেলের রোগি এবং সেবা দাতারা শুধু হাসলেন না সময় করে উকি দিয়ে দেখে গেলেন রোগি কে। কিন্তু আমাকে সেবাদাতা একটু হেসেই ইংরেজি অক্ষর বাদ দিয়ে নিয়ে এলো চিহ্ন সম্বলিত অন্য অংশ। এবং পরিক্ষা নিয়ে শেষ করলেন এবং রেফার করে দিলেন পরবর্তি ধাপের জন্য। আমি পরবর্তি ধাপে গেলাম সেখানেও লম্বা লাইন সে পার্ট শেষ করে চশমা নিয়ে চলে এলাম। ভালো দিন কাটলো সেদিন। ছবিও তুলেছি কিছু দেখুন নিচেই দেয়া আছে।

তথ্যটি শেয়ার করুন
No comments