মৃত্যুকে সেদিন খুব কাছ থেকে দেখলাম, সামান্য কিছুটা অনুভব করেছিলাম আরেকটু হলে পূর্ণ স্বাদ পেতাম তাহলে এ লেখাটা অলিখিত থাকত।
কোন এক বিশ্ব ইজতেমার শেষের দিন মোনাজাতের পর সবাই সবার গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিলেন, সবার বাসের পার্কিং ঠিকানা সবার জানা। কারো বাস পার্কিং হয়েছে হয়তো তুরাগের এপাড়ে আর তারা ছিলো ওপাড়ে। এমন হবার কারণেই হোক আর অন্য কোন কারণেই হোক কামার পাড়া ব্রিজ পাড়াপাড়ের অন্যতম পথ ছিলো। ভিড় থাকার জন্য আমি জনস্রোতে গা ভাসিয়ে ধিরে ধিরে যাচ্ছি কিন্তু ব্রিজের উপরে ওঠার পরেই দেখলাম ওপাড়ের লোক এপারে আসতে মরিয়া হয়ে যাচ্ছে আমি পিছিয়ে আসতে চাচ্ছিলাম কিন্তু পেছন থেকে যে পরিমাণ চাপ আসছিলো তাতে পেছাতে পারলাম না।
স্থির থাকতে চাইলাম আমি শুধু আগাচ্ছিলাম একসময় থেমে গেলাম কারণ সামনে থেকে আরে বেশি চাপ আসছে আমি তখন কিছুটা পিছিয়ে গেলাম তবে নিজের ইচ্ছায় না, প্রবল চাপে। কয়েকটা পিক-আপ আর মাইক্রোবাস ছিলো তারা ব্রেক করে দাড়িয়ে ছিলো তবে দেখলাম সেগুলোর চাকা স্থির থেকে পেছাচ্ছে!!! এবং প্রবল চাপে আমি শ্বাস নিতে পারছিলাম না, কোন এক মূহুর্তে কিছুটা শ্বাস নিলাম তবে আবার সে চাপ এবার শ্বাস ভিতরেই রেখে দিলাম।  এবং দেখলাম এক বয়স্ক লোক তার শ্বাস নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে (ইন্নানিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাহি রাজিউন)। ভারসাম্যহীন হয়ে যাচ্ছি কারণ শ্বাস না নিচ্ছি না ছাড়ছি, তবে বুঝতে পারলাম পুলিশ ব্যাপারটা ঘটার মিনিট খানের মধ্যেই বুঝতে পারছিলেন তাই ব্রিজে ওঠা বন্ধ করে দিলেন আর আমিও নতুন করে শ্বাস নিলাম এবং খুব ভালোভাবে ব্রিজ পাড় হলাম। আর দেখতে আসলাম সদ্য পৃথীবিতে জন্মে শ্বাস নেওয়া ব্যাক্তিকে, তাকে দেখছিলাম আর ভাবছিলাম সে তার মায়ের পেটে কিভাবে শ্বাস নেয়া ছাড়া থাকল আর আমি এত বাতাসের মাঝে থেকেও কোন এক মূহুর্তের জন্য শ্বাস নিতে পারছিলাম না।।
তথ্যটি শেয়ার করুন
No comments