সেদিন যা হয়ে
ছিল আর উগ্রবাদীরা কি ব্যাখ্যা করেছিল। 

 

বিনোদনের ঘাটতি পূরণ করে নিতে শুধু সপ্তাহে একদিন প্রথম আলো এর আলপিন পড়তাম, তা শুধু পড়লেও হত। সাথে পুরাতন সব সংখ্যা জমাতাম, কারণ পরের সপ্তাহ আসতে অনেক সময় তাই পুরতন সংখ্যা বের করে পড়তাম। আর এত এত বার সম্পদন লেখার আবেদন করতো যে লেখা পাঠাতাম টিফিনের টাকা দিয়ে। যেদিন থেকে বুঝতে পারছিলাম পাঠকদের লেখাও আলপিয়ে ছাপায় সেদিন থেকে আমার টিফিন খাওয়া বন্ধ। খাম কিনতাম আর আর প্রতিটা লেখার জন্য আলাদা করে খামে চিঠি পাঠাতাম। প্রথম আলোর ঠিকানা আসলে কোটা পেপারের পিছনে তাদের ঠিকানার ডিটেইস দেখে বুঝতাম না। সেটা না বুঝেই লেখার পাঠাতাম অনেক গুলো লেখা পাঠানোর পর বুঝলাম যে আসলে আমি যে ঠিকানা ব্যবহার করছিলাম তা লেখা ভুল ছিলো। পরে কোন একদিন আলপিনেই দেখলাম আসলে খামে কি লিখতে হবে। কিন্তু লেখা অফ করি নাই, যদিও কোন লেখাই ছাপা হত না। আমার লেখার একটাই দোষ ছিলো সেটা আগের লেখাগুলোর ঠিকানা ছিলো ভুল আর সব লেখাতেই হাতের লেখা ডাক্তারদের মত ছিলো 🙂
কোন একদিন (দিন তারিখ আর সময় একটু কষ্ট করলেই বের করতে পারব করছি না) খুব জ্বর ছিলো এর মধ্যে সেদিন সোমবার (নবীর জন্মদিন) আব্বু পেপার এনে দিল সবসময় পেপার আমি আনতাম সেদিনের অবস্থা দেখে তার মায়া হল তাই সে এনেছিল। আর আমি যে সব বিভাগে লেখা পাঠাতাম সেগুলা না দেখে শুরু থেকে পড়তে শুরু করলাম আর যখন সে বিভাগে পৌছালাম দেখি আমি শ্রেষ্ট প্রশ্নদাতা!!
 



 
 
সেদিন জ্বর চলে গেল আমি পুরা সুস্থ আর পরের দিন থেকে আবার স্কুল। আহ্‌ কি সুন্দর আলপিন আমার লেখা ছাপাইছে। তার পরে আরে লেখা পাঠাতাম কোন লেখােই আর এপ্রুভ হত না। আর পড়তে আর জমাতে থাকা বন্ধ হল না কিছুতেই। এই শুরু হয়েছিল আলপিনের সাথে যাত্রার ২০০৫/৬ সালের দিকে তা একটু কমে গেল যখন আমি মফস্বল ছেলে চলে আসছিলাম গ্রামে। মানে এখন পেপার পাওয়া খুবই কষ্টকর মানে শহরে যেতে হবে নির্দিষ্ট সময়ের আগে আর খুজে বের করতে হবে পেপারবয়কে। বেশ কয়েকটি আলপিন মিস তার উপর পড়ার খুব চাপ। একদিন খুজে পেয়ে সব বললাম এবং কিছু টাকা এডভান্স করে মোবাইল নাম্বার এবং একটি দোকানে সোমবারের পেপার দিতে অনুরোধ করাতে সে রাজি হল। এবং প্রায়ই সে প্রথম আলো না থাকায় অন্য পেপার দিত আর আমি হতাশ হতাম কারণ তখন আমার একমাত্র বিনোদন ছিলো আলপিন। এমনি একদিন কলেজে গিয়ে দোকানে পেপার চাইলে বলে প্রথম আলো বন্ধ!! আমি ভাবলাম হয়তো অন্য কোন সমস্যা বন্ধ হবে কেন। এবং কলেজ থেকে আসার সময় শুনলাম ব্যাপক মাত্রায় গুজব কিন্তু আসলে কি ঘটেছিল তা জানার মত মাধ্যম আমার কাছে ছিল না। তবে গুজবে কি ছিলো তা আপনি আপনার এলাকার যেকাউকে জিজ্ঞাসা করেন বলে দিবে আর সত্য তো উপরে দেয়াই আছে। এটাকে গুজবের সাথে মিলাবেন আর সে সময়ের আন্দোলনের মাত্রা দেখবেন। উগ্রবাদীদের নিয়ে মন্তব্য করাটাও একটা অবান্তর কাজ। তাই তাদের কি বলব শুধু শুনে শুনেই বিশাল গনজামায়াত 🙂 🙂 

তথ্যটি শেয়ার করুন
No comments